Valentine’s Day ভালবাসা দিবস উদযাপন করার ইসলামে বিধান কী?
![]() |
| Valentine day 2024 |
বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন একটি রোমান জাহেলি উৎসব। রোমানরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার পরেও এ দিবস পালনের প্রথা অব্যাহত রাখে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন নামক একজন পাদ্রির মৃত্যুদণ্ডের সাথে এ উৎসবটি সম্পৃক্ত। বিধর্মীরা ও আহলে কিতাব রা এখনো এ দিবসটি পালন করে, ব্যভিচার ও অনাচারের মধ্যে তারা এ দিবসটি কাটিয়ে থাকে।
কোরআন, সুন্নাহ, ইজমাহ ও কিয়াসের মধ্যের যার কোন শরীয়ত সম্মত বিধান বা অস্তিত্ব নেই।
ভালবাসা দিবস পালন করা যে সম্পূর্ণ হারাম, কুফরী ও শরীয়ত গর্হিত একটি কাজ বা অপসংস্কৃতি তার কিছু রূপরেখা অতি সংক্ষেপে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত করবো ইনশা'আল্লাহ!
তার পূর্বে কিছু আয়াত ও হাদিস নিয়ে আসি-
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, "ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহীর মাধ্যমে নাজিলকৃত, একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টি প্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় ও মনোনীত দ্বীন যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে।
(সূরা আল ইমরান - ১৯)
আল্লাহ আরো বলেন, " আমি আজ তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।
(সূরা আল মায়িদা – ৩)
আল্লাহ পাক আরো বলেন," নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মধ্যে আল্লাহ পাক উনার নিকট অবিশ্বাসীরাই নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।
(সূরা আল আনফাল - ৫৫)
হাদিস এ এসেছে," হযরত জাবির বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের কাছ থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা عليه السلام তিনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।"
(মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত)।
হাদিস এ এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে বর্ণিত, রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, যে বাক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাসর তাদের সাথেই হবে।
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ:৪০৩১)
আল্লাহ তায়া'লা বলেন অপচয়কারী শয়তানের ভাই। যেহেতু Valentaine's Day পালন করা হারাম তাই সেখানে খরচ করাও হারাম। কেউ খরচ করলে সে শয়তানের ভাই ছাড়া আর কিছু হতে পারেনা। আর যেহেতু Valentine's Day একটা কাফিরদের অনুষ্ঠান সেহেতু কোন মুমিন যদি তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে তাহলে সে তাদের (কাফেরদের) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কাফেরদের পরিনতি হলো জাহান্নাম।
আবার ওপর দিকে যেহেতু বেগানা পুরুষের জন্য বেগানা নারী বা বেগানা নারীর জন্য বেগানা পুরুষ দেখা পর্যন্ত হারাম সেই জায়গায় বেগানা নারী পুরুষের মধ্যে শিরকি ভালবাসা উত্পাদনের মাধ্যমে জঘন্য শরীয়ত বিরোধী অনৈতিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়।
যা মুমিন মুসলমানের ঈমানকে ধংস করে দেয়, সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয় এবং কঠিন গোনাহ্গার বানিয়ে দেয়। অতএব, যাদের অন্তরে সামান্য ঈমানের ছিটেফোটাও আছে তারা কখনো এইরূপ জঘন্য হারাম ও কুফরী কাজে শরিক হতে পারেনা আর যারা শরিক হবে বা পালন করবে তাহলে বুঝতে হবে এরা সত্যিকার অর্থেই ইয়াদুদী কাফেরের....? এবং ইবলিশ শয়তানের আপডেট ভার্সন!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন বা জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে বাছাই করেছেন এবং তিনি অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা কখনও গ্রহণ করবেন না, তিনি বলেন: "এবং যে কেউই ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা আকাঙ্খা করবে, তা কখনোই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না, এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন।"
(সূরা আলে ইমরান,:৮৫)
নবী বলেছেন, এই উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক বিভিন্ন ইবাদতের প্রক্রিয়া ও সামাজিক রীতিনীতির ক্ষেত্রে আল্লাহর শত্রুদের অনুসরণ করবে। আবু সাঈদ আল খুদরী رضي الله تعالى عنه বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ বলেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে, প্রতিটি বিঘৎ, প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্যে [তাদের তোমরা অনুসরণ করবে], এমনকি তারা সরীসৃপের গর্তে প্রবেশ করলে, তোমরা সেখানেও তাদেরকে অনুসরণ করবে।" আমরা বললাম, "হে রাসূলুল্লাহ! তারা কি ইহুদী ও খ্রীস্টান?" তিনি বললেন: "এছাড়া আর কে?" (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
আজ মুসলিম বিশ্বের বহু স্থানে ঠিক এটাই ঘটছে, মুসলিমরা তাদের চালচলন, রীতিনীতি এবং উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে ইহুদী ও খ্রীস্টানদের অনুসরণ করছে। টিভি, পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, ইন্টারনেটের মত মিডিয়ার প্রচারে অবিশ্বাসীদের অনুসৃত সমস্ত বিজাতীয় রীতিনীতি আজ মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এবং এর অনুসরণ ও অনুকরণ সহজতর হয়ে উঠেছে। মুসলিম সমাজে প্রচলিত এরূপ বহু অপসংস্কৃতির সাথে একটি সাম্প্রতিক সংযোজন হচ্ছে "ভ্যালেন্টাইন'স ডে", যা "ভালবাসা দিবস" নামে বাঙালী মুসলিম সমাজের যুবক-যুবতীদের মাঝে ঢুকে পড়েছে এবং ক্রমে জনপ্রিয়তা লাভ করছে, পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এ দিবসটি পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করছে। এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামের আলোকে এই ভালবাসা দিবসকে মূল্যায়ন করে বাঙালী মুসলিম সমাজের মুসলিম যুবক- যুবতীদের বোধশক্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তাদেরকে কাফিরদের অন্ধ অনুসরণ থেকে নিবৃত্ত করা। নিশ্চয়ই ইহুদী ও খ্রীস্টানসহ অন্যান্য কাফিরদের সংস্কৃতির অনুসরণের পরিসমাপ্তি ঘটবে জাহান্নামের আগুনে, তাই বর্তমান লেখার উদ্দেশ্য আমাদের যুবসম্প্রদায়কে জাহান্নামের পথ থেকে ফিরিয়ে জান্নাতের প্রশান্তির দিকে আহবান করা।
*এটা কোনো ভালোবাসা দিবস নয় বরং বেহায়া পনা, নোংরামিকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিবস।
বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬৪ দিন মানুষকে ধোঁকায় ফেলে শয়তান যতটা না বিজয়ী হয়, তার চেয়ে শয়তান বেশি বিজয়ী হয় এই দিনে। সেই দিনটার কথা আপনাদের কারো অজানা নয়, 'বিশ্ব ভালোবাসা দিবস' নামে যে দিবস সারা পৃথিবীতে পরিচিত। এটা এমন একটা দিন, যে দিনে কিছু যুবক-যুবতী এমন সব অনাচার- অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, যার কারণে পুরো... পৃথিবীটাই একটি অসভ্য ভুমিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন পার্ক, অন্ধকার রেস্টুরেন্টের ছোট্ট কেবিন গুলো একেকটা যেন 'আইয়্যামে জাহেলিয়াতের' বেশ্যাখানায় পরিণত হয়। বাবা- মায়ের আদরের ছেলেটি অন্য কোনো ভাইয়ের লক্ষী বোনকে নিয়ে এমন বেহেল্লাপনায় মেতে উঠে। যা একটি সভ্য দেশ কখনো মেনে নিতে পারে না, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা নিজেদেরকে 'মুসলিম' বলে দাবী করি, কিন্তু ঐটা একটা নামকাওয়াস্তে লেবাস মাত্র। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম নামধারী দেশগুলোতে 'ভালোবাসা দিবসের' নাম দিয়ে তরুন-তরুনীরা ব্যাভিচারে মেতে উঠে।
ভালবাসা দিবস পালনের ক্ষতিকর কিছু দিক:-
নামের এ শব্দটির সাথে এক চরিত্রহীন লম্পটের স্মৃতি জড়িয়ে যারা ভালবাসার জয়গান গেয়ে চলেছেন, পৃথিবীবাসীকে তারা সোনার পেয়ালায় করে নীল বিষ পান করিয়ে বেড়াচ্ছেন। তরুণ- তরুণীদের সস্তা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অথচ আল্লাহ তা'আলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন "আর তারা তো পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।"
(সূরা আল মায়িদাহ: ৬৪)
অবক্ষয় দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করছে। যারা ঈমানদারদের সমাজে এ ধরণের অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"যারা মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।" (সূরা আন-নূর :১৯)
বস্তুত যে সমাজেই চরিত্র-হীনতার কাজ ব্যাপক, তথায় আল্লাহর নিকট থেকে কঠিন আযাব সমূহ ক্রমাগত অবতীর্ণ হওয়া অবধারিত,
আব্দুল্লাহ ইবন 'উমর رضي الله تعالى عنه থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেছেন:
"যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান, পরে তারা তারই ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, যার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারি, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায় নি।"
(ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, হাদিস নং-৪০০৯)
বিবাহ পূর্ব দৈহিক সম্পর্ক গড়তে কোন রকম কুণ্ঠাবোধ করছে না। অথচ তরুণ ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন মিশরের এক রানী অভিসারে ডেকেছিল, তখন তিনি কারাবরণকেই এহেন অপকর্মের চেয়ে উত্তম জ্ঞান করেছিলেন। রোমান্টিক অথচ যুব- চরিত্রকে পবিত্র রাখার জন্য কী অতুলনীয় দৃষ্টান্ত! আল্লাহ জাল্লা শানুহু সূরা ইউসুফের ২৩-৩৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
উল্কি আঁকাতে যেয়ে নিজের ইয্যত-আব্রু পরপুরুষকে দেখানো হয়। যা প্রকাশ্য কবিরা গুনাহ। যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে তা আঁকা হয়, উভয়য়ের উপরই আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হয়।
রাসূলুল্লাহ )ﷺ( বলেন,
"যে ব্যক্তি পর-চুলা লাগায় এবং যাকে লাগায়; এবং যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে আঁকে, আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেন।"
(বুখারী, কিতাবুল লিবাস, হাদিস নং৫৪৭৭)
মূলত যার লজ্জা নেই, তার পক্ষে এহেন কাজ নেই যা করা সম্ভব নয়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
"যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পার।"
(বুখারী, কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া, হাদিস নং৩২২৫)
দিবসের নামে নির্লজ্জতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যিনা-ব্যভিচার, ধর্ষণ ও খুন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
"যে জনগোষ্ঠীর-মধ্যেই ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তথায় মৃত্যুর আধিক্য ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে।"
(মুয়াত্তা মালিক, কিতাবুল জিহাদ, হাদিস নং-৮৭০)
উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসগুলোর ভাষ্য কতটা বাস্তব বর্তমান বিশ্বের বাস্তব চিত্র এর প্রমাণ বহন করে। অবাধ যৌন মিলনের ফলে "AIDS" নামক একটি রোগ বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটা এমনি মারাত্মক যে, এ রোগে আক্রান্ত হলে এর কোন আরোগ্য নেই। বিশ্ব ভালবাসা দিবসের এসব ঈমান বিধ্বংসী কর্ম-কাণ্ডের ফলে মুসলিম যুব-মানস ক্রমশ ঈমানি বল ও চেতনা হারিয়ে ফেলছে।হৃদয় থেকে তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় উঠে যাচ্ছে।
প্রিয় মুমিন-মুসলিম ভাই-বোনেরা! ভালবাসা কোন পর্বীয় বিষয় নয়। এটি মানব জীবনের সুখ-শান্তির জন্য একটি জরুরি সার্বক্ষণিক মানবিক উপাদান। সুতরাং আমাদের মধ্যে ভালবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিখানো সার্বক্ষণিক পন্থাটি অবলম্বন করি।
বিশ্ব ভালবাসা দিবসের নামে এসব ঈমান বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড হতে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাযত করুন। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যেন কাউকে ভালবাসি এবং শত্রুতাও যদি কারো সাথে রাখতে হয়, তাও যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাখি।
তাই এই দিনটিকে কোনো মতেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বলা যাবে না, ১৪ ই ফেব্রুয়ারী দিবসের নাম হবে "বিশ্ব বেহায়া দিবস"। এই দিবসের সঙ্গে কোনো মুসলিমের সম্পর্ক থাকতে পারে না। কারন মুসলিমদের প্রতিটি দিনই ভালোবাসার।
{"আদ্দিনু ওয়ান্ নাসিহা" "দ্বীন মানেই হলো কল্যাণ কামনা (ভালোবাসা, উপকার...).", সুবহানাল্লাহ। কুরআনের প্রত্যেকটি পাতায় পাতায় কেবল ভালোবাসার কথা।}
মা-বাবাকে কিভাবে ভালবাসতে হবে, আত্মীয়-স্বজনকে কিভাবে ভালোবাসতে হবে, স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে কিভাবে ভালোবাসতে হবে, প্রতিবেশী, মুসলিম-অমুসলিম বন্ধু-বান্ধব সহ এমনকি মাতা- পিতার বন্ধুদের সাথে কি আচরণ করতে হবে, সব খুলে খুলে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তার নিয়ম শুদ্ধ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন।
সুতরাং ধিক্কার জানাই এই বিশ্ব বেহায়া দিবসকে। এটা মুসলমানের কোনো প্রয়োজন নাই, অতএব ধিক্কার জানাই ঐ সকল তরুন-তরুনীদের যারা লাল গোলাপ নিয়ে প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী যিনা-ব্যাভিচারে মত্ত হবে। ধিক্কার জানাই ঐ সব বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাহিত্যিকদের, যারা ১৪ ই ফেব্রুয়ারী দিনকে পুঁজি করে তরুন-তরুনীদেরকে অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করে।
আল্লাহ বলেন,"সেই ব্যাক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হবে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকলো, সৎ কাজ করলো, আর বললো আমি মুসলমান"। অতএব মুসলমান হয়েও যারা ইসলামী সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে Western Culture গ্রহণ করে নিয়েছে, তোমরা প্রস্তুত থাকো কবর তোমাদেরকে হাতছানী দিয়ে ডাকছে।
আল্লাহ আমাদের বিশ্ব বেহায়া দিবস নামক আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা করুন। আমীন
-মুহাম্মদ ইমরান বিন আব্দুল হাকিম
(সহ সভাপতি of আল ইসলাহ ফাউন্ডেশন মুর্শিদাবাদ,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত)
%20(17)%20(1).jpeg)